সকাল সাড়ে দশটায় চলে গেলেন জনপ্রিয় সিনেমা জগতের ইনি, শোকের ছায়া রঞ্জিত মল্লিক সহ বিশিষ্টজনের

একটা প্রচলিত কথা আছে, ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে’। অর্থাৎ জন্ম নিলে মরতেই হবে। সে সমস্ত প্রাণী দের ক্ষেত্রেই এই কথাটি প্রযোজ্য। একবার জন্ম গ্রহণ করলে তাকে মরতেই হবে, এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে কেউ অমর হয় না। কেউ অমর হতে পারে না। একটা সময় পরে সকলকেই মরতে হয়।

কিন্তু কোন প্রাণী বা মানুষের তো স্বাভাবিক ভাবেই মৃত্যু হওয়া উচিত। কিন্তু এমন অনেক ঘটনা প্রতিনিয়ত আমাদের চোখের সামনে আমরা দেখতে পাই, বা এনন অনেক মৃত্যু আমাদের চোখের সামনে ঘটে যেগুলো খুবই অবাস্তব ভাবে ঘটে, যেগুলো হয়তো ঘটার ছিল না, কিন্তু ঘটে গেছে।

এমন অনেক মৃত্যুই ঘটে যেগুলো সত্যিই আনএক্সপেক্টেড। কিন্তু ঘটে যায় এমন মৃত্য প্রায়ই আমাদের চোখের সামনে। তেমনই সম্প্রতি মারা গেলেন রাজ্যরাজনীতির এক বিখ্যাত মানুষ। কে তিনি, জেনে নিন বিস্তারিত।

মৃত্যু বলতে জীবনের সমাপ্তি বুঝায়। জীববিজ্ঞানের ভাষায় প্রাণ আছে এমন কোন জৈব পদার্থের জীবনের সমাপ্তিকে মৃত্যু বলে। অন্য কথায়, মৃত্যু হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যখন সকল শারিরীক কর্মকাণ্ড যেমন শ্বসন, খাদ্য গ্রহণ, পরিচলন, ইত্যাদি থেমে যায়। কোন জীবের মৃত্যু হলে তাকে মৃত বলা হয়

চলে গেলেন কিংবদন্তী পরিচালক মৃণাল সেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

 

রবিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মৃত্যু হয় এই কিংবদন্তী পরিচালকের। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। এমনই জানানো হয়েছে তাঁর পরিবার সূত্রে।

আরও পড়ুন-  মিলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে খাট ভেঙে ফেললেন যুবক যুবতী! খাট তৈরীর লোকটির নামে FIR দায়ের দম্পতির!

১৯২৩ সালের ১৪ মে মৃণাল সেন বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসেন। গঙ্গাপারে পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজ ভরতি হন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি করেন।

আরও পড়ুন- আজ ভোরে স্টোকে মারা গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা, টলিউডে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি,মমতা ব্যানার্জী করলেন টুইট

আরও পড়ুন- কার কাছে ধর্ষিত হওয়ার পর সানি লিওন শুরু করেন তার পর্ন জীবন দেখে নিন

ছাত্র জীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন মৃণাল। যদিও তিনি কখনও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হননি। পড়াশোনা শেষ করে সাংবাদিকতা শুরু করেন মৃণাল। এরপরে ওষুধ বিপননকারী হিসেবেও কাজ করেছেন। এরপরে চলচ্চিত্রে শব্দ কলাকুশলী হিসাবে কাজ করেন। তারপরে তিনি নিজেই চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজ শুরু করেন।

১৯৫৫ সালে মৃণাল সেনের প্রথম পরিচালিত ছবি রাতভোর মুক্তি পায়। এই ছবিটি বেশি সাফল্য পায় নি। তাঁর দ্বিতীয় ছবি নীল আকাশের নীচে তাঁকে স্থানীয় পরিচিতি এনে দেয়। তাঁর তৃতীয় ছবি বাইশে শ্রাবন থেকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। ১৯৬৯ সালে তাঁর পরিচালিত ছবি ভুবন সোম মুক্তি পায়। এই ছবিটি অনেকের মতে মৃণাল সেনের শ্রেষ্ঠ ছবি। এই ছবিতে বিখ্যাত অভিনেতা উৎপল দত্ত অভিনয় করেছিলেন।

তাঁর কলকাতা ট্রিলোজি অর্থাৎ ইন্টারভিউ (১৯৭১), ক্যালকাটা ৭১ (১৯৭২) এবং পদাতিক (১৯৭৩) ছবি তিনটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন কলকাতার অস্থির অবস্থাকে তুলে ধরেছিলেন। মধ্যবিত্ত সমাজের নীতিবোধকে মৃণাল সেন তুলে ধরেন তাঁর খুবই প্রশংসিত দুটি ছবি এক দিন প্রতিদিন (১৯৭৯) এবং খারিজ (১৯৮২) এর মাধ্যমে। খারিজ ১৯৮৩ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল।

১৯৮০ সালের চলচ্চিত্র আকালের সন্ধানে। এই ছবিতে দেখানো হয়েছিল একটি চলচ্চিত্র কলাকুশলীদলের একটি গ্রামে গিয়ে ১৯৪৩ খ্রীষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষের উপর একটি চলচ্চিত্র তৈরির কাহিনী। এই ছবিটি ১৯৮১ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার হিসাবে রুপোর ভালুক জয় করে। মৃণাল সেনের পরবর্তীকালের ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য মহাপৃথিবী (১৯৯২) এবং অন্তরীন (১৯৯৪)। এখনও অবধি তাঁর শেষ ছবি আমার ভুবন মুক্তি পায় ২০০২ সালে।

Updated: December 30, 2018 — 4:07 pm